নবীজির জীবনী – Nobijir Jiboni [মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সঃ জীবনী]

Nobijir Jiboni – প্রিয় পাঠক পাঠিকা বন্ধুরা আজকে আমরা এই পোস্টে আলোচনা করব নবীদের শ্রেষ্ঠ শিরোমনি অর্থাৎ দুনিয়ার বুকে যত নবী এসেছে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব তাহলে আর দেরি না করে চলো বন্ধুরা দেখে নেওয়া যাক বিশ্ব নবীর জীবনী।

নবীজির জীবনী - Nobijir Jiboni [মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সঃ জীবনী]

জন্ম ও বংশ পরিচয়

Contents Of This Post Hide

জন্মহযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থিত মক্কা নগরীর কুরাইশ গোত্রের বনি হাশিম বংশে জন্মগ্রহণ করেন। মতান্তরে উনার জন্ম ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে।

বংশ
মক্কার সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন।

পরিচয়
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিতার নাম আব্দুল্লাহ, মাতার নাম আমিনা এবং দাদার নাম আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম এবং নানার নাম ওহাব বিন আব্দে মানাফ।

শৈশব ও কৈশোর কাল

তৎকালীন আরবের রীতি ছিল যে তারা মরুভূমির মুক্ত আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠার মাধ্যমে সন্তানদের শ্রেষ্ঠ দেহ এবং সুঠাম গড়ন তৈরির জন্য জন্মের পরপরই দুধপান করানোর কাজে নিয়োজিত বেদুইন মহিলাদের কাছে দিয়ে দিতেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর আবার ফেরত নিতেন ঠিক এই নীতির ই অনুসরণ করে বিশ্বনবীর মোহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে হালিমা বিন আবু জুয়াইবের হাতে দেওয়া হয়।

এই শিশুকে ঘরে আনার পরে দেখা যায় মা হালিমার অবস্থার উন্নতি হয় অর্থাৎ মা হালিমার স্বচ্ছতা ফিরে আসে এবং তারা শিশু পুত্রকে সঠিকভাবে লালন পালন করতে সমর্থ হয়।এই সময়কার একটি বিশেষ ঘটনা আমাদের তাজ্জব করে দেয় ঘটনাটি ছিল এইরকম বিশ্বনবী মা হালিমার কেবলমাত্র একটি স্তন ই পান করতেন এবং অপরটি তার দুধ ভাইয়ের জন্য রেখে দিতে ঠিক এইভাবে দু বছর লালন-পালনের পর মা হালিমা শিশু মুহাম্মদকে মা আমিনার কাছে ফিরিয়ে দেন কিন্তু এরপর পরপরই মক্কায় মহামারী দেখা দেয় আবার পুনরায় শিশু মোহাম্মদকে মা হালিমার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।ইসলামী বিশ্বাস মতে এর কয়েকদিন পরেই একটি অলৌকিক ঘটনা ঘটে, ঘটনাটি ছিল এইরকম একদিন শিশু নবীর বুক চিরে কলিজার একটি অংশ বের করে তা জমজম কূপের মধ্যে পানিতে ধুয়ে আবার যথাস্থানে স্থাপন করে দেওয়া হয় ইসলামের ইতিহাসে এ ঘটনাটি সিনাচাকের ঘটনা হিসেবে সুবিখ্যাত।

এই ঘটনার পরেই মা হালিমা মোহাম্মদ কে, মা আমিনার কাছে ফিরিয়ে দেন।ছয় বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তিনি মায়ের সাথে কাটান এই সময় একদিন মা আমিনার ইচ্ছা হয় ছেলেকে নিয়ে তিনি মদিনায় যাবেন সম্ভবত কোন আত্মীয়ের সাথে দেখা করা এবং স্বামীর কবর জিয়ারত করায় ছিল এর অন্যতম কারণ।

মা আমিনা ছেলে, শ্বশুর এবং দাসী উম্মে আয়মনকে নিয়ে ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মদিনায় পৌঁছলেন সেখানে দীর্ঘ একমাস কাটালেন একমাস পূর্ণ হওয়ার পর উনি পুনরায় মক্কায় ফেরার পথে আরওয়া নামক স্থানে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।মা আমিনার মৃত্যুর পর দাদা আব্দুল মোত্তালেব শিশু মোহাম্মদ কে নিয়ে মক্কায় ফিরে আসেন এরপর থেকে দাদাই মুহাম্মদের দেখাশোনার ভার নেন।মোহাম্মদের বয়স যখন আট বছর দু মাস দশ দিন তখন তার দাদাও মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি তার পুত্র আবু তালিবকে মোহাম্মদের দায়িত্ব দিয়ে যান।

আবু তালিব ব্যবসায়ী ছিলেন এবং আরবদের নিয়ম অনুযায়ী বছরে একবার সিরিয়া সফরে যেতেন। মোহাম্মদের বয়স যখন ১২ বছর তখন তিনি চাচার সাথে সিরিয়া যাওয়ার জন্য বায়না ধরলে যথেষ্ট মমতার কারণে আবু তালিব আর নিষেধ করতে পারলেন না। যাত্রা পথে বসরা পৌঁছানোর পর কাফেলা সহ আবু তালিব সেখানেই তাঁবু ফেললেন।সে সময় আরব উপদ্বীপের রোম অধিকিত রাজ্যের রাজধানী বসরা অনেক দিক দিয়ে সেরা ছিল।


নবুয়তের পূর্ব জীবন

আরবদের মধ্যে বিদ্যমান হিংস্রতা, খেয়ানত প্রবণতা এবং প্রতিশোধস্পৃহা দমনের জন্যই হিলফুল ফুজুল নামক একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়।মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে যোগদান করেন এবং এই সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায় তরুণ বয়সে মোহাম্মদের তেমন কোন পেশা ছিল না তবে তিনি বকরি চড়াতেন বলে বহু জায়গায় উল্লেখ পাওয়া যায়।

সাধারণত তিনি যে বকরিগুলো চড়াতেন সেগুলো ছিল বনিসাদ গোত্রের।কয়েক কিরাত পারিশ্রমিকের বিনিময় তিনি মক্কায় বসবাসরত বিভিন্ন ব্যক্তির বকরি ও চড়াতেন।এরপর তিনি ব্যবসা শুরু করেন।

সাফল্য লাভ করার কারণে তার উপাধি হয়ে যায় আল-আমিন এবং আল সাদিক যেগুলোর বাংলা অর্থ হচ্ছে যথাক্রমে বিশ্বাস তো এবং সত্যবাদী। ব্যবসার উপলক্ষে তিনি সিরিয়া-বসরা বাহরাইন এবং ইয়েমেনে বেশ কয়েকবার সফর করেছিলেন।

বিশ্ব নবীর সুখ্যাতি যখন চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে তখন খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ তাকে নিজের ব্যবসার জন্য সফরে যাবার অনুরোধ করেন। মোহাম্মদ এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং খাদিজার পণ্য নিয়ে সিরিয়ার অন্তর্গত বসরা পর্যন্ত যান।

খাদিজা মাইসারার মুখে মোহাম্মদের সততা ও ন্যায় পরায়ণতার প্রশংসা শুনে তিনি অভিভূত হন। এছাড়া ব্যবসার সফলতা দেখে তিনি তার যোগ্যতা সম্বন্ধে অবহিত হন একপর্যায়ে তিনি মোহাম্মদকে শাদী করার সিদ্ধান্ত নেয়।প্রিয় বান্ধবী নাফিসার মাধ্যমে মোহাম্মদের কাছে শাদির প্রস্তাব পাঠান।

নাফিসার কাছে শুনে মোহাম্মদ বলেন যে তিনি তার অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানাবেন।মোহাম্মদ তার চাচাদের সাথে কথা বলে বিয়ের সম্মতি জ্ঞাপন করেন বিয়ের সময় খাদিজার বয়স ছিল ৪০ বছর আর মুহাম্মদের বয়স ছিল ২৫ বছর।

মোহাম্মদের বয়স যখন ৩৫ বছর তখন কাবাগৃহের পুনঃনির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বেশ কয়েকটি কারণে কাবাগৃহের সংস্কারের কাজ শুরু হয়। পুরনো ইমারত ভেঙে ফেলে নতুন করে তৈরি করা শুরু হয়।এভাবে নির্মাণের সময় যখন হাজরে আসওয়াদ অর্থাৎ পবিত্র কালো পাথর পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শেষ হয় তখনই দেখা যায় ঘোর বিপত্তি মূলত কোন গোত্রের লোক এই কাজটি করবে তা নিয়েই এই ঝনঝট কিন্তু হাজরে আসওয়াদ স্থাপন ছিল মাত্র একজনের কাজ।

কে স্থাপন করবে এই নিয়ে যখন বিবাদ চরমে পৌঁছায় এবং চার পাঁচ দিন যাবত এ বিবাদ অব্যাহত থাকে তখন এক এক মারাত্মক রুপ ধারন করে এমনকি হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয় এমতাবস্থায় আবু উমাইয়া মাখজুমি একটি সমাধান নির্ধারণ করে যে পরদিন ভোরে মসজিদে হারামে দরজা দিয়ে যে প্রথম প্রবেশ করবে তার সিদ্ধান্তই সবাই মেনে নেবে পরদিন মোহাম্মদ সবার প্রথমে কাবায় প্রবেশ করেন এতে সবাই সন্তুষ্ট হয় তাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয় আর তার প্রতি সবার সুখ গভীর আস্থাও ছিল যাইহোক এই দায়িত্ব পেয়ে মোহাম্মদ অত্যন্ত সুচারুভাবে তা পালন করেন তারপর নিজে হাতে হাজরে আসওয়াদ রাখেন এবং বিবদমান প্রত্যেক গোত্রের নেতাদের ডেকে তাদেরকে চাদরের বিভিন্ন কোণা ধরে যথাস্থানে নিয়ে যেতে বলেন এবং তারা তা করে এরপর তিনি পাথর উঠিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করেন।

নবুয়ত প্রাপ্তি

চল্লিশ বছর বয়সে বিশ্বনবী মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াত লাভ করেন অর্থাৎ এ সময়ই স্রষ্টা তার কাছে ওহী প্রেরণ করেন। নবুওয়াত সম্বন্ধে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় আজ-জুহরির বর্ণনায়। বর্ণিত হাদিস অনুসারে নবীর সত্য দর্শনের মাধ্যমে ওহি লাভ করেন। ৩০ বছর বয়স হয়ে যাওয়ার পর নবী প্রায় ই মক্কার অদূরে হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় কাটাতেন।

তার স্ত্রী খাদিজা নিয়মিত তাকে খাবার দিয়ে আসতেন। এমনি এক ধ্যানের সময় ফেরেশতা জিব্রাইল আলাইহিস সালাম তার কাছে আল্লাহ প্রেরিত ওহী নিয়ে আসেন।জিব্রাইল আলাইহিস সালাম তাকে এই পংক্তি কটি পড়তে বলেন……….পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।

সৃষ্টি করেছেন মানুষকে রক্ত জমাট থেকে।পাঠ করুন আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানতো না।

উত্তরে নবী জানান যে তিনি পড়তে জানেন না এতে জিব্রাইল আলাইহিস সালাম তাকে জড়িয়ে ধরে প্রবল চাপ প্রয়োগ করেন এবং আবার একই পংক্তি পড়তে বলেন কিন্তু এবারও মোহাম্মদ নিজের অপাগতার কথা জানান।

এভাবে তিনবার চাপ দেয়ার পর মোহাম্মদ পড়তে সমর্থ্য হন অবতীর্ণ হয় কুরআনের প্রথম আয়াত সুরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত প্রথমত অবতরণের পর নবী এতই ভীত হয়ে পড়েন যে তিনি কাঁপতে কাঁপতে গৃহে প্রবেশ করেন এবং খাদিজাকে কম্বল দিয়ে নিজের শরীর জড়িয়ে দেবার জন্য বলেন। বারবার বলতে থাকেন আমাকে আবৃত করো।

ধীরে ধীরে আত্মস্থ হন নবী তারপর আবার অপেক্ষা করতে থাকেন পরবর্তী প্রত্যাদেশের জন্য। একটি লম্বা বিরতির পর তার কাছে দ্বিতীয়বারের মতো ওহি আসে এবার অবতীর্ণ হয় সূরা মুদ্দাস্সির কয়েকটি আয়াত।

এরপর থেকে গোপনে ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন মোহাম্মদ।এই ইসলাম ছিল জীবনকে সম্পন্ন পরিবর্তন করে দেওয়ার জন্য একটি আদর্শ ব্যবস্থা।তাই এই প্রতিষ্ঠার পথ ছিল খুবই বন্ধুর। এই প্রতিকূলতার মধ্যেই নবীর মক্কা জীবন শুরু হয়।

বক্ষবিদারণ

বিশ্বনবীর পবিত্র বক্ষ মোবারক মোট চারবার বিদীর্ণ করা হয়।
প্রথমবারঃ—– তিন বছর বয়সে দুধ ভাই আব্দুল্লাহর সাথে চারণভূমিতে থাকা অবস্থায়।
দ্বিতীয়বারঃ—–দশ বছর বয়সে মরুভূমিতে থাকা অবস্থায়।
তৃতীয়বারঃ—– রমজান মাসে নবুয়াত প্রাপ্তির পূর্বে হেরা গুহায় অবস্থানকালে।
চতুর্থবারঃ—– মিরাজের রাতে হাতিমে কাবায় তাশরীফ গ্রহণের পর।

সিরিয়া সফর

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বয়স যখন ছয় বছর মতান্তরে নয় বছর হয় তখন চাচার সাথে তিনি প্রথম সিরিয়া সফর করেন।এরপর ২৩ বছর বা ২৪ বছর বয়সে হযরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর গোলামের সাথে দ্বিতীয়বার সিরিয়া সফর করেন।

মক্কা জীবন ও গোপনে দাওয়াত প্রচার

প্রত্যাদেশ অবতরণের পর বিশ্বনবী বুঝতে পারেন যে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হলে তাকে পুরো আরব সমাজের প্রতিপক্ষ হিসাবে দাঁড়াতে হবে কারণ তৎকালীন নেতৃত্বের ভীত ধ্বংস করা ছাড়া ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠার অন্য কোন উপায় ছিল না। তাই প্রথমে তিনি নিজে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের মাঝে গোপনে ইসলামের বাণী প্রচার করেন। ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম ব্যক্তি ছিলেন খাদিজা।

এরপর মুসলিম হন মোহাম্মদের চাচাতো ভাই এবং তার ঘরেই প্রতিপালিত কিশোর আলী। ইসলাম গ্রহণের সময় তার বয়স ছিল দশ বছর।

ইসলামের বাণী পৌঁছে দেয়ার জন্য নবী নিজে বংশীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সভা করেছিলেন এই সভায় কেউই তার আদর্শ মেনে নেয় নি শুধুমাত্র একজনই এই সভা থেকে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি হলেন আলী।এরপর বিশ্ব নবীর খাস বন্ধু আবুবাকর। এভাবেই প্রথম পর্যায়ে তিনি ইসলাম প্রচারের কাজ শুরু করেন আর এভাবেই গোপনে চলতে থাকে ইসলাম প্রচারের কাজ।

প্রকাশ্যে দাওয়াত প্রচার

তিন বছর গোপনে দাওয়াত দেওয়ার পর বিশ্বনবী প্রকাশ্যে ইসলামের প্রচার শুরু করেন। এ ধরনের প্রচারের সূচনাটা বেশ নাটকীয় ছিল।নবী সাফা পর্বতের উপর দাঁড়িয়ে চিৎকার করে সকলকে একত্রিত করেন।এরপর প্রকাশ্যে বলেন যে আল্লাহ ছাড়া কোন প্রভু নেই এবং মোহাম্মদ আল্লাহর প্রেরিত রাসুল।ঠিক এই সময় থেকেই ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অত্যাচার শুরু হয়।

মক্কায় বিরোধীতার সম্মুখীন

বিরুদ্ধবাদীরা কয়েকটি স্তরে নির্যাতন শুরু করে।প্রথমত উস্কানি ও উত্তেজনার আবহাওয়া সৃষ্টি, এরপর অপপ্রচার কুটতর্ক এবং যুক্তি।এক সময় ইসলামী আন্দোলন কে সহায়হীন করার প্রচেষ্টা শুরু হয় যাকে সফল করার জন্য একটি নেতিবাচক ফ্রন্ট গড়ে ওঠে একই সাথে গড়ে তোলা হয় সাহিত্য ও অশ্লীল বাজনার ফ্রন্ট।

মোহাম্মদ এর সাথে আপোষের প্রচেষ্টা চালায় কোরাইশরা কিন্তু মোহাম্মদ তা মেনে নেয়নি কারন আপোসের শর্ত ছিল নিজের মত ইসলাম পালন করা সে ক্ষেত্রে তার ইসলাম প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাই ব্যর্থ হয়ে যেত।

ইথিওপিয়ায় হিজরত

ধীরে ধীরে যখন মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংস্রতা চরম রূপ ধারণ করেছিল তখন নবী কিছু সংখ্যক মুসলিমকে আবিসিনিয়ায় হিজরত করতে পাঠিয়েছিলেন। সেখান থেকে কুরাইশরা মুসলিমদের ফেরত আনার প্রচেষ্টা করে যদিও তৎকালীন আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজ্জাশীর কারণে তা সম্পন্ন ব্যর্থ হয়েছিল।

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের ইসলাম গ্রহণ

এরপর ইসলামের ইতিহাসে যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি ঘটে তা হল ওমর ইবনুল খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণ। নবী সবসময় চাইতেন যেন আবু জেহেল ও ওমরের মধ্যে যেকোনো একজন অন্তত ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। তার এই ইচ্ছা এতে পূর্ণতা লাভ করেছিল।

আরব সমাজে তার যথেষ্ট প্রভাব থাকায় ইসলাম গ্রহণ ইসলাম প্রচারকে যথেষ্ট সহজ করে দেয়। যদিও কঠিন অংশটিই তখন মুখ্য বলে বিবেচিত হচ্ছিল এরপর একসময় নবীর চাচা হামজা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তার ইসলাম গ্রহণে আরবে মুসলিমদের আধিপত্য কিছুটা হলেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

একঘরে অবস্থান

এইভাবে ইসলাম ধর্ম যখন ধীরগতিতে এগিয়ে চলছে তখন মক্কার কুরাইশরা মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এবং তার অনুসারী সহ গোটা বনি হাশেম গোত্রকে এক ঘরে আটক করে। তিন বছর আটক থাকার পর তারা মুক্তি পায়।

হস্থিবাহিনীর ঘটনা

আবরাহা ছিল ইথিওপেয়ার কর্তৃক নিযুক্ত ইয়ামানের গভর্নর।সে আরবদেরকে কাবা শরীফে হজ করতে দেখে সানআতে এক বিরাট গির্জা নির্মাণ করলেন যেন আরবরা এ নবনির্মিত গির্জায় হজ করে। কেনান গোত্রের এক লোক তা শোনার পর রাতে প্রবেশ করে গির্জার দেয়াল গুলোকে মলমূত্র দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেয়।আবরাহা একথা শোনার শোনার পর ভীষণ ক্ষেপে উঠে ষাট হাজারের এক বিরাট সেনা বাহিনী নিয়ে অনেক কাবা শরীফ ধ্বংসের জন্য অগ্রসর হন।

নিজের জন্য সেসব সবচেয়ে বড় হাতিটা পছন্দ করলো সেনাবাহিনীর মধ্যে নয়টি হাতি ছিল। মক্কার নিকটবর্তী হওয়া পযর্ন্ত তারা যাত্রা অব্যাহত রাখল।তারপর সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত করে মক্কা প্রবেশ করায় উদ্যত হলো কিন্তু হাতি বসে গেল কোনক্রমেই কাবার দিকে অগ্রসর হলো না যখন তারা হাতিকে কাবার বিপরীত দিকে অগ্রসর করাল তো দ্রুত সেদিকে অগ্রসর হত কিন্তু কাবার দিকে অগ্রসর করাতে চাইলেই বসে পড়তো।

এমতাবস্তায় আল্লাহ তাদের প্রতি প্রেরণ করলেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি যা তাদের উপর পাথর নিক্ষেপ করা শুরু করেছিল।অতঃপর তাদেরকে ভক্ষিত তৃণ সদৃশ করে দেওয়া হয়।প্রত্যেক পাখি তিনটি করে পাথর বহন করেছিল একটি পাথর ঠোঁটে আর দুটি পায়ে পাথর। দেহে পড়া মাত্র সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেতে লাগল।

যারা পলায়ন করে তারাও মৃত্যুর ছোবল থেকে রক্ষা পায়নি আবরাহা এমন একটি রোগে আক্রান্ত হয়ে যায় তার সব আঙ্গুল পড়ে যায় এবং আনআই পাখির ছানার মতো পৌঁছালো এবং সেখানেই তার মৃত্যু হল। কোরাইশরা গিরিপথে বিক্ষিপ্ত হয়ে গিয়েছিল এবং সেনাবাহিনীর ভয়ে পর্বতে আশ্রয় নিয়েছিল আবরাহার সেনাবাহিনীর এই অশুভ পরিণামের পর তারা নিরাপদে ঘরে ফিরে আসে।

দুঃখের বছর ও তায়েফ গমন

কিন্তু মুক্তির পরের বছরটি ছিল মোহাম্মদের কাছে দুঃখের বছর কারণ এই বছরের খুব অল্প সময়ে ব্যবধানে তার স্ত্রী খাদিজা ও চাচা আবু তালেব মারা যায়। দুঃখের সময় নবী মক্কায় ইসলামের প্রসারের ব্যাপারে অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়ে। হতাশ হয়ে তিনি মক্কা বাদ দিয়ে এবার ইসলাম প্রচারের জন্য তিনি তায়েফে যান কিন্তু সেখানে ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে মোহাম্মদ চূড়ান্ত অপমান ক্রোধ ও উপহাসের শিকার হন।

এমনকি তায়েফের লোকজন তাদের তরুণদেরকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে লেলিয়ে দেয় তারা ইট প্রস্তরের আঘাতে নবীকে রক্তাক্ত করে দেয় কিন্তু তবুও তিনি হাল ছাড়েননি তিনি ইসলামের বিজয় পতাকা উত্তোলন না করা পর্যন্ত স্থির হননি।

মিরাজ তথা উর্দ্ধারোহন

এই সময় কিছু শুভ ঘটনা ঘটে। ইসলামী ভাষ্যমতে এ সময় মুহাম্মদ এক রাতে মক্কায় অবস্থিত মসজিদুল হারাম থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত মসজিদুল আকসায় যান এই ভ্রমণ ইতিহাসে ইসরা নামে পরিচিত।

কথিত আছে মসজিদুল আকসা থেকে তিনি একটি বিশেষ জানে করে উর্দ্ধারোহন করেন এবং মহান স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভ করেন এছাড়া তিনি বেহেশত ও দোজখসহ মহাবিশ্বের সকল স্থান পরিদর্শন করেন এই যাত্রা ইতিহাসে মিরাজ নামে পরিচিত। এই সম্পূর্ণ যাত্রা সময় পৃথিবীতে কোন সময় অতিবাহিত হয়নি বলে বলা হয়।

মদিনায় হিজরত

এসময় আরো একটি শুভ ঘটনা ঘটে। মদিনার বেশ কিছু লোক ইসলামের প্রতি উৎসাহী হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। তারা মূলত হজ করতে এসে ইসলামের দাওয়াত পেয়েছিলেন।এরা আকাব নামক স্থানে মোহাম্মদের কাছে শপথ করেন যে তারা যেকোনো অবস্থায় নবীকে রক্ষা করবেন এবং ইসলামের প্রচারের কাজে সহযোগিতা করবেন।এটি আকাব শপথ নামে পরিচিত।

এই শপথ গুলোর মাধ্যমেই মদিনায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং একসময় মদিনার বারোটি গোত্রের নেতারা একটি প্রতিনিধি দল প্রেরণের মাধ্যমে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মদিনায় আসার আমন্ত্রণ জানাই।

মদিনা তথা ইয়াসরিবে অনেক আগে থেকে প্রায় ৬২০ খ্রিঃ পর্যন্ত গোত্র গোত্র এবং ইহুদিদের সাথে অন্যদের যুদ্ধ লেগে থাকত।বিশেষত বুয়াসের যুদ্ধে গোত্র গোত্র অংশ নেয় এবং প্রচুর রক্তপাত ঘটে। এ থেকে মদিনার লোকেরা বুঝতে পারে যে রক্তের বিনিময়ে রক্ত নেওয়ার প্রতিটি নীতিটি এখন আর প্রযোজ্য হতে পারে না।

এজন্য তাদের একজন নেতা দরকার যে সবাইকে একতাবদ্ধ করতে পারবে এ চিন্তা থেকেই তারা মোহাম্মদকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল যদিও আমন্ত্রণকারী অনেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেনি এই আমন্ত্রণে মুসলিমরা মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় চলে যায়। সবশেষে মোহাম্মদ ও আবু বকর মদিনায় হিজরত করে তাদের হিজরতের দিনে কুরাইশরা মোহাম্মদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন যদিও তারা ব্যর্থ হয়।

মা আমেনার মৃত্যু

আমেনা নিজের এতিম শিশু মোহাম্মদকে নিয়ে ইয়াসরাবে বনি নাজ্জার গোত্রে মামাদের সাথে মিলিত হওয়ার জন্য যাত্রা করেন। সেখানেই কিছুদিন থাকার পরে ফেরার পথে আবহওয়া নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।মোহাম্মদ চার বছর বয়সেই মাতৃস্নেহ ও আদরের ছায়া থেকে চির বঞ্চিত হন।

দাদা আব্দুল মোত্তালিব এই অপূরনীয় ক্ষতির কিছুটা লাঘব করার চেষ্টা করেন। তাই তিনি তার দেখাশোনা ও পরিচর্যার সম্পন্ন দায়িত্ব নেন।

মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বয়স যখন ছয় বছর তখন তার দাদা ইহকাল ত্যাগ করেন অতঃপর চাচা আবু তালিব আর্থিক অভাব অনটন ও পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি থাকা সত্ত্বেও তার দেখাশোনার সম্পন্ন দায়িত্ব নেন ও তার স্ত্রী রাসুলের সাথে আপন ছেলের ন্যায় আচরণ করতেন এতিম ছেলের সম্পর্কে আপন চাচার সাথে সম্পর্ক অনেকটা গভীর হয়ে যায়। এ পরিবেশে তিনি বড় হয়ে উঠলেন।

হাবশার অভিমুখে হিজরত

যার ইসলাম গ্রহণের কথা ফাঁস হয়ে যেত তিনি মুশরিকদের নিপীড়নের সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতেন। বিশেষত যারা দুর্বল মুসলিম ছিলেন এ পরিপ্রেক্ষিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে দ্বীন নিয়ে হাবশায় হিজরত করার নির্দেশ দেন।

ওমরের ইসলাম গ্রহণ

ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ইসলাম গ্রহণ মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় বিজয় ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ফারুক বলে আখ্যায়িত করেছেন কারণ আল্লাহতালা তার মাধ্যমে সত্য ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য সূচিত করেছেন।

ইসলাম গ্রহণের কয়েক দিন পরে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন হে আল্লাহর রাসূল আমরা আমরা কি সত্যের উপরে নয় প্রত্যুত্তরে তিনি বললেন কেন নয় নিশ্চয়ই আমরা সত্যের মধ্যে।

ওমর বললেন তওমরা এত গোপনীয়তা কি জন্য তখন আরকামের বাড়িতে সমবেত মুসলিমদেরকে নিয়ে তিনি বের হয়ে পড়েন এবং তাদেরকে বিভক্ত করে দেন হামজা বিন আব্দুল মোত্তালিবের নেতৃত্বে একদল এবং ওমর বিন খাত্তাবের নেতৃত্বে আর এক দল।

চন্দ্র দুই টুকরো হওয়া

মুশরিকরা অনেক সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অপারগ, অক্ষম সাব্যস্ত করার ফন্দিতে বিভিন্ন অলৌকিক নিদর্শন দেখানোর দাবি করত। আর এ ধরনের দাবি জানায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তাদেরকে চন্দ্র দু টুকরো করে দেখানো হয় কুরাইশরা দীর্ঘ সময় ধরে এ নিদর্শন দেখতে থাকে কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা ঈমান গ্রহণ করেনি বরং তারা বলে মোহাম্মদ আমাদেরকে যাদু করতে পারবেনা।

তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি বলল আমাদের জাদু করলেও সব মানুষকে তো আর যাদু করতে পারবে না।দূতের অপেক্ষা কর বিভিন্ন দূত আসলে জিজ্ঞেস করা হয় এবং তারা বলে হ্যাঁ আমরাও দেখেছি কিন্তু কুরাইশরা নিজেদের কুফরে যে ধরে রয়ে গেল। এক বৃহত্তর অলৌকিক ঘটনার পটভূমি অবতরনিকা ছিলো আর তা হল মেরাজের ঘটনা।

মদিনার দিকে হিজরত

মদিনা সত্য ও সত্যের ধারকদের আশ্রয়ে পরিনত হয়। মুসলিমরা সেদিকে হিজরত করতে লাগলেন। তবে কুরাইশরা মুসলিমদেরকে হিজরত করতে বাধা দেওয়া ও প্রতিরোধ সৃষ্টি করার জন্য বদ্ধপরিকর।পরে কতিপয় মুজাহিদ বিভিন্ন প্রকার শাস্তি ও নির্যাতনের শিকার হন।

মুসলিমরা গোপনে হিজরত করতেন কিন্তু ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হিজরত ছিল ব্যতিক্রম।তার হিজরত ছিল সাহসিকতা,নির্ভীকতা ও চ্যালেঞ্জের এক অন্যতম দৃষ্টান্ত। তরবারি উন্মোচিত করে এবং তীর বের করে কাবায় গিয়ে তাওয়াফ করেন। অতঃপর মুশরিকদের উদ্দেশ্যে বলেন যে ব্যক্তি স্বীয় পত্নীকে বিধবা বা সন্তান-সন্ততিকে এতিম বানানো ইচ্ছা করে সে যেন আমার পিছু ধাওয়া করে।

আমি আল্লাহর পথে হিজরত করছি অতঃপর তিনি চলে গেলেন। কেউ কিছু পিছু ধাওয়া করার সাহস করেনি। আবু বকর সিদ্দিক রাসূলের নিকট হিজরতের অনুমতি চাইলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন তাড়াহুড়ো করো না অবশ্যই মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন তোমাদের জন্য একজন সঙ্গী নির্ধারণ করবেন।অধিকাংশ মুসলিম ইতিপূর্বে হিজরত করেছেন।

মসজিদ নববীর নির্মাণ

উট যেখানে বসে গিয়েছিল বিশ্বনবী সেই জায়গাটি প্রকৃত মালিকের থেকে কেনার পর সেখানে মসজিদে নববীর নির্মাণ করলেন।একজন মুজাহিদ ও আনসারী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে। ভাতৃত্ব সম্পর্ক গভীর ও সুদৃঢ় হয়।

বদরের যুদ্ধ

এমন বিপদজনক ও বিপদ সংকুল পরিস্থিতিতে আল্লাহতালা সশস্ত্র যুদ্ধের অনুমতি দেন রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম শত্রুদের তৎপরতা জানার লক্ষ্যে সামরিক মিশন চালানো আরম্ভ করেন।শত্রুদের বাণিজ্যিক কাফেলার পিছনে ও প্রতিরোধ সৃষ্টি করতে লাগলো যাতে তারা মুসলিমদের শক্তির কথা উপলব্ধি করে শান্তি ও সন্ধি প্রক্রিয়ায় এসে ইসলামের প্রচারের স্বাধীনতায় বা বাস্তবায়নে কোন ধরনের বিঘ্ন না ঘটায়।

ওহুদের যুদ্ধ

বদর যুদ্ধের পর মুসলিম ও মক্কার কাফেরদের মধ্যে যেসব যুদ্ধ সংঘটিত হয় ওহুদ যুদ্ধ তাদের মধ্যে দ্বিতীয়। এতে মুশরিকরা জয়লাভ করে কারণ কিছু সংখ্যক মুসলিম রাসূলের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করেননি ফলে যথাযথভাবে তারা যুদ্ধ করতে ব্যাহত হয়।যুদ্ধে কাফেরদের সংখ্যা ছিল ৩০০০ আর মুসলিম ছিলেন মাত্র ৭০০ জন।

খন্দকের যুদ্ধ

এ যুদ্ধের পর মদিনার কিছু ইহুদি মক্কায় গিয়ে মক্কাবাসীকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উস্কানি দেয় এবং নিজেদের সমর্থন সাহায্য সহযোগিতার অঙ্গীকার করে ফলে কাফেররা ইতিবাচক সাড়া দেয় অতঃপর ইহুদিরা অন্যান্য গোত্র সমূহকে উস্কানি দিলে তারাও মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রতিজ্ঞা করে।এলাকা থেকে মদিনা অভিমুখে রওনা দেয়।

মক্কা বিজয় ও মক্কাবাসীদের ইসলাম গ্রহণ

দশ বছর দীর্ঘমেয়াদি হুদাইবিয়ার সন্ধি মাত্র দু বছরেই ভেঙ্গে যায়। খুজাআহ গোত্র ছিল মুসলমানদের মিত্র অপরদিকে তাদের শত্রু বকর গোত্র ছিল কুরাইশদের মিত্র।

*মহানবীর মৃত্যু

বিদায় হজ্জ থেকে ফেরার পর হিজরী ১১ সালের সফর মাসে বিশ্বনবী জ্বরে আক্রান্ত হন। অসুস্থ অবস্থাতেও তিনি দীর্ঘ ১১ দিন নামাজের ইমামতি করেন।অবশেষে ১১ ই হিজরী সালের রবিউল আউয়াল মাসের ১ তারিখ ৬৩ বছর বয়সে দুনিয়া ছেড়ে বিদায় নেন।আলী(রাঃ) তাঁকে গোসল দেন এবং কাফন পড়ান।আয়েশা(রাঃ) কামরার যে স্থানে মৃত্যুবরণ করেন সেখানেই তাঁকে জানাজার পর দাফন করা হয়।


image_pdfDownload PDFimage_printPrint This Page

Leave a Comment