একটি পাঠ্যপুস্তকের আত্মকথা রচনা [Ekti Pustaker Attokotha]

একটি পাঠ্যপুস্তকের আত্মকথা

কোথায় আছে যার জন্ম আছে তার মৃত্যু আছে, আর তাই জানব একটি পাঠ্যপুস্তকের আত্মকথা রচনা [Ekti Patthopustaker Attokotha]। প্রতিটি বই এর থাকে বাল্য, মধ্য বয়স আর অবসান কাল। সব বইয়ের মতো একটি বই হলো বাংলা সহায়ক পাঠ্য। চলুন বন্ধুরা আমি আমার জীবনের গল্পঃ টা সোনায়।

একটি পাঠ্যপুস্তকের আত্মকথা [Ekti Patthopustaker Attokotha]

আরো পড়ুন – একটি কলমের আত্মকথা [Ekti Kolomer Attokotha]

ভূমিকাঃ-

আমি একটি পাঠ্যপুস্তক আমার স্বপ্ন ছিল দেশের ভাবিকালের ভাষা সংস্কৃতি ও সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবো। বেশ কয়েক বছর আমি অরজিনাল লাভ করেছি ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষক শিক্ষিকার কাছে।

বর্তমানে আমি পাঠক্রম বহির্ভূত হওয়ায় আমার সুদিনের অবসান হয়েছে।

আমার পরিচয়ঃ-

আমার পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ কর্তৃক প্রদত্ত নামটি হলো বাংলা সহায়ক পাঠ আমার প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে।

সভাপতির বক্তব্যঃ-

ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনে তাদের মনন গঠনে আমি যে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারেন সভাপতি তার বক্তব্যে তাকে গুরুত্বসহ করে তুলে ধরেন।

এবং তিনি এও বলেন যে আমার সার্থকতা ও উপযোগিতা অনেক অংশে নির্ভর করছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতা ও তাদের প্রশিক্ষণ ক্ষমতার উপর।

বিষয়বস্তুঃ-

আমার বিষয়ে সূচীতে ছিল ২৪ টি গল্প ৫৪ টি কবিতা এবং লেখকের প্রবাদ প্রবচন। ৫০ টি বাংলা সাহিত্যের রচনা সম্ভার থেকে বাছাই করা উপাদানের সংকলন হিসেবে আমি প্রকাশিত হই।

হাস্যরস করুন রস প্রকৃতির সঙ্গে সমসাময়িক সমাজ ও মানব জীবনের নানান বিচিত্র ব্যাপার বিশেষ সূচিতে প্রতিফলিত হয়েছে।

সুখ-দুঃখের স্মৃতিঃ-

যে প্রকাশনীর সংস্থা আমার আত্মপ্রকাশের দায়িত্ব লাভ করে সেটি আমার দৌলতে প্রচুর অর্থের অধিকারী হয়ে ওঠে। ছাত্রছাত্রী শিক্ষক-শিক্ষিকা মহলে আমার কদর বাড়তে থাকে।

ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আমাকে সংগ্রহ করার আগ্রহ আমার প্রাণনাথ ভরিয়ে দিত। উচ্চবিত্ত মানুষেরা সহজেই বিভিন্ন বইয়ের দোকান থেকে নতুন ঝকঝকে সদস্য বানাতে সাজানো অবস্থায় আমাকে কিনে গৌরবে ঘরে তুলতেন।

তাদের শৈশব সুসজ্জিত করে তুলতে একি পড়ার টেবিলে অবস্থান করতো। আমার সুখ স্বাচ্ছন্দ্যই আলাদা আমাকে অনেক বেশি শান্তি আর তৃপ্তি দিত।

যখন মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরোয়ারা আমাকে পুরনো বইয়ের দোকান থেকে কম দামে কিনে নিয়ে আসত। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় মোমবাতি বা কেরোসির ল্যাম্পের আলোয় আমাকে পড়ত। তাদের মুখ চোখের একাগ্রতা তন্ময়তা আমার হৃদয়কে এক অপূর্ব আনন্দে ভরিয়ে দিত।

শেষ জীবনঃ-

আজ পাঠ্যক্রম থেকে বাদ পড়ার পরে আমার অবস্থা হয়েছে ঝরা পাতা দের মত। ঝরা পাতার মতোই ধূসর নিস্ত্রাণ। জীর্ণ অবয়ব নিয়ে আমি বাতিল বইয়ের স্টপে ফুটপাতে দোকানের কোন এক কোণে পড়ে থাকি। এখন অনাদরে অবহেলায়, কোন পরোয়ার নজরে পড়ে যাওয়ার আশা নিয়ে দিনযাপন ছাড়া আমার আর কিছুই করার নেই।

উপসংহারঃ-

আমার আত্মকথার ইতি জনাব। কবিগুরুর অমক বাণী উদ্ধৃত করে যাবার আগে এই কথাটি বলে জানা যায় যা দেখেছি যা পেয়েছি তুলনা তাহার নয় আমি পাঠ্যপুস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে প্রজ্ঞা মনোজ তিতা জাগিয়ে তোলায় আমার কাজ।

সেই বিচারের সুসময়ে আনন্দ সুখের প্লাবনে ভেসে যাওয়া বা দুঃসময়ে দুর্দশ হয় ভারে ভেঙে পড়া কোনটাই আমার ক্ষেত্রে সঙ্গত নয়।

Leave a Comment